একটা মজার গল্প শুনবেন? মানে, মজা কতটা লাগবে
জানিনা, তবে গল্পটা অনেকটা সত্যি, আর বেশ গোলমেলে। শেষ অবধি মজা পেয়ে গেলে আমাকেই
দোষ দেবেন ’খন। গল্পের চরিত্রদের নাম বদলেই দিচ্ছি- প্রায় সত্যি ঘটনা কিনা!
পূর্ব ভারতের একটা বড় শহর। খুব বেশি বড় নয়, তবে
পুরনো হওয়ার সুবাদে জনসংখ্যা সহ্যের থেকে বেশি। ঘিঞ্জি, অল্প নোংরা- কিন্তু তার
জন্য কি আর লোকসংখ্যা কমেছে কোনকালে ভারতে? তা, সেই শহরে অনেক ডাক্তার। নানা
বিষয়ের, নানা রোগের বিশেষজ্ঞ। পুরনো, নতুন, কচি, পোড়খাওয়া-
পুরো বর্ণালী পাওয়া যায় এখানে। আশপাশের বিরাট বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোন ভাল
হাসপাতাল নেই- এদিকে এখানে একটা ডাক্তারি কলেজ পর্যন্ত রয়েছে। রুটির ওপর ব্যাঙের
ছাতার মতো তাই নিশ্চিতভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ওষুধের দোকান- ভাল কথায় কেমিস্ট,
ফার্মাসিস্ট, প্যাথোলজি ল্যাব এটা-সেটা-রা এটা-সেটা-রা।
এগুলো হলো সেই সব জিনিস, যা জনগণের চোখের সামনে
থাকে। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজার যাওয়ার সময় নতুন গজিয়ে ওঠা দু’টো ওষুধের দোকান
দেখে কাকা-জ্যাঠারা মন্তব্য করেন-“এত ডাক্তার, এত দোকান- কিন্তু তিন বছর ধরে
কোমরের ব্যথার চিকিচ্ছে করতে পারলো না ব্যাটারা- চোরের দল সব”। অথবা, “দেখছিস কি?
এই হচ্ছে গ্লোবালাইজেশনের ফল, বুঝলি! আমাদের ছোটবেলায় হরেনপিসে দুটো-চারটে গুলি
দিয়ে দিতেন, একদিনে চাঙ্গা। এখন? পুরো পেনশন শেষ হয়ে যাবে, তবু শরীর ঠিক হয় না
মড়া!”। এসব কথা কতটা অভিজ্ঞতার ফল আর কতটা বিরক্তির বিষ- সে নিয়ে তর্কে না ঢুকেই
এটুকু বলা যায়, যে এ সমস্তই হিমশৈলের উপরেরটুকু মাত্র।
চোখে যা দেখা যায়না, তার অনেক রকম, অনেক গড়ন।
গল্পকে মহাভারত না বানিয়ে আমরা তাই ততটুকু বলবো, যা গল্পের প্রয়োজনে লাগে।



