Showing posts with label জেম্মার ডায়রি. Show all posts
Showing posts with label জেম্মার ডায়রি. Show all posts

Tuesday, April 10, 2012

টোটার কথা ২

৮

আজ দোল। রাস্তায় সক্কলে রঙের উৎসবের নামে নিজেদের চাপা ইচ্ছে পূরণ করছে। আমি বসে আছি গোপালদার বন্ধ চায়ের দোকানে, মোড়ের বাচ্চাগুলোর ছোঁড়া রঙের কুমকুম গায়ে নিয়ে। ওরা ইতিমধ্যে আমায় পাগল ভেবে নিয়ে মনের সুখে রঙ দিয়ে ক্লান্ত হয়ে এখন পাড়ার কুকুরগুলোর দিকে নজর দিয়েছে। একটা ভীষণ একা গাছ ভরে পলাশ ফুটেছে। হাল্কা হাওয়া দিয়েছে। আমি একা। অল্প দুঃখ হচ্ছে। অনুতাপ?নাহ্‌। পলাশ গাছটা একা নয়। ওর মতো আরও অনেকে আছে জগতে, যারা শান্তিনিকেতনে যেতে না পারলেও ফুল ফোটাতে কসুর করেনা। সামনের বাড়ির দোতলার বারান্দায় একটি ছোট্ট মিষ্টি মেয়ে আমার দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে আছে। আমি একটু হাসলাম। কুচকুচে কালো মুখে সাদা দাঁত দেখে বোধহয় একটু ভয় পেয়েই ভিতরে চলে গেলো মেয়েটা। আমি উঠে পড়লাম টালমাটাল হয়ে।

প্রতিমার কথা

৭

পই পই করে বলে দেওয়া হয়েছে যে সামান্য সাত-দশটা শাড়ি নিয়ে গোলমাল হলে আমায় যেন না ডাকে, তাও ওই ভ্যাবলামুখী অপরাজিতা মেয়েটার কি আমায় না জ্বালালেই চলছিলো না? সকাল এগারোটায় কোনো বুটিক-চেন এর মাল্কিন দোকানে আসা তো দূরে থাক, দোকান খোলার কথাও ভাবে না, সেখানে তোমার বস্‌ এসে পৌঁছনো মাত্র তুমি নিজের অক্ষমতার ফিরিস্তি নিয়ে হাজির হবে? সব কিছু বলে দেবে- করে দেবে প্রতিমাদি-ই যদি, তবে আর কি- বাকি পাওনা টাকা তুলে নিয়ে মানে মানে চলে গেলেই তো পারো! সেই কথাই স্পষ্ট করে বলায় শুরু হল নাটক! সক্কাল সক্কাল ধিঙ্গি মেয়ের নাকের জল দেখলে মাথায় আগুন চড়বে, তাতে আশ্চর্য কি? সেই যে সকালে শুরু হয়েছিলো দুর্যোগের, সন্ধ্যেবেলা সেটাই চরমে পৌঁছলো।

ভাল-মন্দ মিশিয়ে

৬

জানি, অনেক কিছু খুলে বলা হয়নি। অনেক ধোঁয়াশা জমে উঠে এখন আমার ছোট্ট জগৎটা ঢেকে ফেলার ভয় দেখাচ্ছে। আসলে তিতিরের প্রসঙ্গ এলেই আমি কেমন একটা রক্ষণাত্মক খোলসের মধ্যে ঢুকে পড়ি। বিশ্বাস করুন, ওর আমার মেয়ে হয়ে জন্মানোর কথা ছিলো। প্রকৃতির সেই অনিচ্ছাকৃত ভুল আমি না শোধরালে আর কে-ই বা আছে? নিজের ছেলের কথা বলছেন? টোটা কে আমি এখন সামান্য হলেও ভয় পাই। না, ওকে নয়, ওর একগুঁয়েমিটাকে। ভুল বুঝবেন না, এখনো প্রতি বেলায় খেতে বসে মনে হয় কি খেলো, কোথায় খেলো ছেলেটা- প্রতিদিন ফিরতে দেরি হলে উৎকণ্ঠা শুরু হয়। কিন্তু যখনই ওকে দেখি- মুখে একরাশ বিরক্তি- গলায় আমার প্রতি উপেক্ষা উপচে উঠছে- বাড়ির সকলের জন্য বরাদ্দ রেখেছে অবজ্ঞা- তখন মনে হয়, যে ময়দার তালটাকে জন্ম দিয়েছিলাম আজ থেকে কুড়ি বছরেরও বেশি আগে- বদলাতে বদলাতে আজ আর তার কিছুই বাকি নেই ওই উদ্ধত যুবকের শরীরে। অন্যদিকে তিতির- আমার না হওয়া মেয়ে। নেহাত মায়ের বদলে জেম্মা বলে ডাকে- নইলে গোটা পৃথিবী জানে আমার সাথে ওর সম্পর্ক।

Thursday, January 5, 2012

টোটার কথা

৫

আমি পার্টি করিনা। পশ্চিম বাংলায় আমার পক্ষে ‘পার্টি’ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সে কথা মাকে কে বোঝাবে? আমাদের দেশ, আমার রাজ্য, আমার শহর- ধর্মনিরপেক্ষ। তাই আমার পক্ষে এখানে পার্টি করা – স্বপ্ন দেখার সমান। আমার কোন পার্টি নেই, অন্তত এই রাজ্যে। হাতে গোনা কিছু সমমতের বন্ধু থাকলে কি তাকে পার্টি বলে? তেমন হলে আমি এই পার্টির একজন বড় মাপের নেতা। আমি হিন্দু। না, ওই গেরুয়া পদ্মের দলটার সঙ্গে আমার- আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমার ধর্ম হিন্দু – যে ধর্মের গ্রন্থ বেদ, সংহিতা আর ঊপনিষদ। প্রচারক শঙ্করাচার্য, বিবেকানন্দ। আমার প্রথম পরিচয়- অন্য অসংখ্য বাঙালির মতো বিশ্বায়নের পাল্লায় পড়ে ভেড়ুয়া বনে যাইনি। আমি জঙ্গি হিন্দু। থামুন! আমি RSS নই!

জানি, এতটা পড়ার পরে আপনার এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে কি কুক্ষণে এই লেখাটা পড়তে বসেছিলেন, তাই তো? ঘাবড়াবেন না। এখানে তত্ত্বকথা বলে নিজের ও আপনার সময় আমি নষ্ট করবো না। দামি রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে একধরনের লঙ্কা আর পেঁয়াজ দেয়-

Wednesday, December 21, 2011

তিতিরের কথা

৪

দুটো ছ’টাকা দামের কফির কাপ, এক প্লেট বাটার ফ্রাই (জানি ওটাকে ব্যাটার ফ্রাই বলে, তমিশ্রা কুড়ি-পঁচিশ বার বলেছে, তবু আমার কাছে দোকানের মেনু ভগবান), এক প্যাকেট সিগারেট, অনেকটা প্রেমের সঙ্গে একটু-আধটু রাগারাগি, আমি আর প্রবীর- এই ছিল আমার প্রথম প্রেমের প্রথম এক মাসের দৈনিক ছবি। নন্দন-এর টিকিট কাউন্টারটা ছাড়িয়ে আকাদেমীর টিকিট কাউন্টারের দিকে যেতে যে ফাঁকা জায়গাটা, ওইখানে ছিল আমাদের রাদেঁভু পয়েন্ট। মে মাসের গরম, ক্লাসমেটদের বাঁকা চাউনি, জেম্মার খবরদারি, ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন মায়ের কাছে করা অঙ্গীকার, সন্ধে হলে পুলিশের ‘মদন-ভ্যানে’ ওঠার ভয়- কিছুই আমাদের দমাতে পারেনি। পার্সে কখনোই টাকা বেশি থাকে না, তায় কোথাও বসতে হলেই কিছু না কিছু কিনতে হয়- সব মিলিয়ে সিনেমা হলের অন্ধকারের আবডালটা খুব বড় বিলাসিতা ছিল আমাদের কাছে। তবু জানতাম আমারই মতো প্রবীরও টাকা জমাচ্ছে মাসে অন্তত একবার কোন কমদামী সিনেমা হলে ঢোকার জন্যে। কলকাতায় যখন প্রথম মাল্টিপ্লেক্স এলো, সব জায়গায় কি লাফালাফি- স্বাধীন হল-মালিকদের ভাত মারা যাচ্ছে। একটা কথা কেউ খেয়াল করেনি,

Tuesday, December 13, 2011

জেঠিমার ঝুলি

৩

আমার নাকি কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতটাই কমে যাচ্ছে, যে কিছুদিন পরে নিতান্ত ভাল-মন্দের বিচারও আর করে উঠতে পারবো না। এই সিদ্ধান্ত আমার নয়, কোন ডাক্তারেরও নয়, শ্রীমতি সবজান্তা তিতিরের। কোন এক সাময়িক পত্রিকায় পড়েছে যে টিভি দেখার সঙ্গে বুদ্ধি কমে যাওয়ার সরাসরি যোগ আছে- ব্যস্‌, বকে বকে কানের পোকা খেয়ে ফেলল। যতই বোঝাই, ওরে, পরের সংখ্যায় দেখবি আবার উল্টো কথা বলেছে, তাও নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে- কে কার কথা শোনে? ‘সহচরী’ তে লিখেছে মানে ও নিশ্চয়ই বেদেও লেখা আছে। শেষ পর্যন্ত শান্তি রক্ষা করতে মেনেই নিলাম যে আমার বুদ্ধির গ্রাফ নিম্নমুখী। সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলো।

সাময়িক বলছি কেন?

মম চিত্তে নিতি নৃত্যে...

২

আসল নামটা নাহয় না-ই বললাম। ধরে নিন ওর নাম তিতির। ওই যে আমায় ‘জেম্মা’ বলে ডাকে আর কি। আগের দিন বলছিলাম না, আমাদের দুই অসমবয়সী বন্ধুর সুখ-দুঃখের কথা- শেষ করেছিলাম স্বগতোক্তি দিয়ে। আজ তার ব্যাখ্যা দেওয়া যাক। সত্যিটা খুব পরিষ্কার। ওর জেঠু বেঁচে থাকলে মোটেই ভাল হতো না। অন্তত আমার পক্ষে। না, লোকটা খারাপ ছিলো না। ভালবেসেই বিয়ে করেছিলাম। তখন কথায় কথায় জীবন শেষ হওয়ার কথা ভাবতাম। জীবনের বিশেষ দাম ছিলো না। ‘ওকে ছাড়া বাঁচবো না’, ‘কলকাতা ছাড়লে বাঁচবো না’, ‘নাচ ছাড়লে মরে যাবো’- এইসব। যারা মুখ বেঁকিয়ে বলতো- ও সব বিয়ের পরে জানালা দিয়ে পালাবে- তাদের উদ্দেশ্যে মনে মনে বলতাম, ‘এত তীব্র আমার অনুভূতি, খামোকা পাল্টাতে যাবে কেন? দেখিয়ে দেবো আমার ধৈর্য আর ভালবাসার কত জোর।’ তখন শুধু একটা জিনিসই বুঝিনি- জীবন ঠিক কতটা লম্বা। প্রতিদিনের আণুবীক্ষণিক পরিবর্তন প্রয়োজনমতো সময় পেলে ‘অতীত আমি’ আর ‘ভবিষ্যৎ আমি’র মধ্যে ঠিক কতটা তফাৎ গড়ে তুলতে পারে- বিশ্বাস করুন, বুঝিনি। ভালবাসায় যে সম্পর্কের সূত্রপাত, তা যে অন্য সব সম্পর্কের থেকে অনেক বেশি দাবি করে, তাও বুঝিনি। যে সহনশীল, চনমনে, দায়িত্ববান যুবককে ভালবেসেছিলাম, সে যে ঠিক কবে এক গম্ভীর, নিয়ন্ত্রণাসক্ত, রসবোধহীন ‘স্বামী’তে পরিণত হয়েছিল, জানিনা। তা-ও, অতীত প্রেমের স্মৃতি, অভ্যেস আর এক অনুচ্চারিত আশাবোধ থেকে বিয়েটা ভাঙিনি। বিদ্রোহ করেছিলাম, নিজের মতো করে।