Wednesday, December 21, 2011

তিতিরের কথা

৪

দুটো ছ’টাকা দামের কফির কাপ, এক প্লেট বাটার ফ্রাই (জানি ওটাকে ব্যাটার ফ্রাই বলে, তমিশ্রা কুড়ি-পঁচিশ বার বলেছে, তবু আমার কাছে দোকানের মেনু ভগবান), এক প্যাকেট সিগারেট, অনেকটা প্রেমের সঙ্গে একটু-আধটু রাগারাগি, আমি আর প্রবীর- এই ছিল আমার প্রথম প্রেমের প্রথম এক মাসের দৈনিক ছবি। নন্দন-এর টিকিট কাউন্টারটা ছাড়িয়ে আকাদেমীর টিকিট কাউন্টারের দিকে যেতে যে ফাঁকা জায়গাটা, ওইখানে ছিল আমাদের রাদেঁভু পয়েন্ট। মে মাসের গরম, ক্লাসমেটদের বাঁকা চাউনি, জেম্মার খবরদারি, ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন মায়ের কাছে করা অঙ্গীকার, সন্ধে হলে পুলিশের ‘মদন-ভ্যানে’ ওঠার ভয়- কিছুই আমাদের দমাতে পারেনি। পার্সে কখনোই টাকা বেশি থাকে না, তায় কোথাও বসতে হলেই কিছু না কিছু কিনতে হয়- সব মিলিয়ে সিনেমা হলের অন্ধকারের আবডালটা খুব বড় বিলাসিতা ছিল আমাদের কাছে। তবু জানতাম আমারই মতো প্রবীরও টাকা জমাচ্ছে মাসে অন্তত একবার কোন কমদামী সিনেমা হলে ঢোকার জন্যে। কলকাতায় যখন প্রথম মাল্টিপ্লেক্স এলো, সব জায়গায় কি লাফালাফি- স্বাধীন হল-মালিকদের ভাত মারা যাচ্ছে। একটা কথা কেউ খেয়াল করেনি,

Friday, December 16, 2011

ঈশপ

আমি বুঝলি চিরদিন এরকম ছিলাম না,

বিশ্বাস কর, একদম স্বাভাবিক ছিলাম।

একজন নিখুঁত কচ্ছপ ছিলাম, জানিস-

তোর সাথে তো ছোটবেলা থেকে মিশি, কখনও

মনে হয়েছে, আমার গন্ডি ছাড়িয়ে কিছু করেছি?

না, তোরও দোষ নেই, আমারও না।

সুন্দর জঙ্গুলে জীবন কাটাতাম,

খাবার, বাসস্থান- কিছুই মেলানো যেত না,

তবু একসঙ্গে থাকতাম।

গল্পটা কে প্রথম পড়েছিল-

তুই, না আমি?

বাজে, জঘন্য গল্প।

বিশ্বাস কর, তোর পায়ে পড়ি, ভাল লাগেনি।

কেমন একটা মাথা ঘুরে গিয়েছিল।

বিপ্লবের ইচ্ছে জেগেছিল।

ইচ্ছে করেছিল, দেখাই আমারও ক্ষমতা আছে।

তোকে তাই দৌড়তে বলেছিলাম।

কেন রাজি হলি,

কেন রাজি হলি তুই?

আমারই দোষ, তোর আঁতে ঘা দিয়েছিলাম।

কি দরকার ছিল? আত্মবিশ্বাস ছিল খুব, না?

তুই মান বা না মান,

তোকে খুব ভাল করে চিনি, নিজের থেকেও।

জানতাম, তুই হারবি। তোকে ছাড়িয়ে যাব।

গল্পের খরগোশ তো হেরেছিল-

তুই এসেই পৌঁছতে পারলিনা, হারিয়ে গেলি মাঝপথে-

হারিয়ে দিয়ে গেলি আমায়।


***************************************
[হেইডাও সেম কেস... কিস্যুই হয় নাই...  :'( ]

সোজা সাপ্টা কথা

-      “স্পষ্টবক্তা মেয়েটার সামনে শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়া যায়,

আহ্লাদে গদগদ হওয়া যায়, গর্বে বুক ফেটে যায়;

ক্রুদ্ধ হয়ে পাশ কাটানো বা ঝগড়া করাও বিচিত্র নয়—

কিন্তু, ... পরম নির্ভরতায় কাঁধে হাত রাখা যায় কি?”

আপনি বলবেন- “হ্যাঁ, যাবে না কেন? অবশ্যই যায়,

একশোবার যায়। যায়, যায়, যায় ...”

-      “আঃ, অত জোর দিচ্ছেন কেন? মনে মনে সাপোর্ট পাচ্ছেন না তো?

ভয় নেই, আমি স্পষ্টবক্তা নই, পেট পাতলাও নই-

কাউকে বলে দেব না যে আপনার লাস্ট রিলেশনটা......”

-      “ক্ষেপছেন কেন? জানি, বলবেন, এখন যিনি-শুক্লাদি, তিনিও তো স্পষ্টবক্তা।

কই, তাঁর সঙ্গে তো...

বললাম তো, আমি স্পষ্ট কথা বলিনা, তবু, সবাই তো দেখতে পায়,

আপনার আজকাল তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাওয়া-”

-      “আমি!! কেন? ও বাবা, আর্টসের মেয়ে; স্যারের সাথে

সন্ধের পর বাড়ি ফিরছে দেখেই ভাবলেন......”

-      “রাগ করবো কেন? সত্যি বলবো, আজ তোমার টেবিলটা

গুছিয়ে দিতে দিতে খুব গান গাইছিলাম, গুনগুন করে,......

এখনো ভাবছো কেন বলিনা? তোমার ভাল লাগতো,

যদি প্রথম দিন স্পষ্ট করে বলতাম- ‘আপনাকে ভালবাসি’? ”

***************************************************
(এইটে কিছুই হয়নি... গদ্য-পদ্য কারে কয়, তা-ই জানি না, তায় আবার গদ্য কবিতা!!)

মরণের পারে

কালিদাস কি বলে জানো?
“মেঘ-পিওনের ব্যাগের ভেতর মনখারাপের দিস্তা”।

হাওয়ার দেশের রেলগাড়িটা

ফুয়েল আমার পাগলামিটা
এক নিমেষেই লাফিয়ে পেরোয় এভারেস্ট আর তিস্তা।

রেলগাড়িটা আমার মিতে,

দিনরাত্তির গ্রীষ্ম- শীতে
তোমারই জন্য বেগার খাটছি আমরা দু’জন।

অথচ যখন অনেক পরে

Thursday, December 15, 2011

যে রাঁধে, সে চুমুও খায়

হাতি দেখেছেন? আমি ওর’ম দেখতে। ফ্যাকাশে হাতি। বৈশিষ্ট্যহীন হাতি। ডায়েট করা হাতি, কিন্তু হাড়জিরজিরে নই। শুঁড় নেই। মাথায় চুল আছে, চোখে চশমা। ন্যাজ আছে, তবে লুকনো। গায়ের রঙ, বাবা (চোখ বন্ধ করে) বলেন ‘উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ’। গাল ফোলা, বেঁটে হাতি। তেমন করে বললে অবশ্য সকলকেই হাতির মতো দেখতে। সে যাকগে, আসল কথা হলো- এইরকম দেখতে একটা হাতিকে দেখার জন্যে নিশ্চয়ই আপনি বাড়ি থেকে উজিয়ে আলিপুর আসবেন না, তাই না? দেখতেই যদি না আসেন, তবে তার লেখা পড়ার জন্যে ঢাক পিটিয়ে তৈরি করা ব্লগে আসবেন কি জন্য? তৎসত্ত্বেও যদি দিক ভুলে এসে পড়ে থাকেন, তবে আপনি নেহাত মাথামোটা। হাতির মতো। আচ্ছা, চালাক লোকেদের কেউ মাথা রোগা বলেনা কেন? সত্যি নয় বলে, নাকি বেশি কথা বলার ভয়ে? আমার তো মনে হয়, আসলে মাথামোটা মানে আগে বুদ্ধিমানই ছিল, পরে নিন্দুকে (যারা কিছুতেই আপনাকে আমাকে দেখতে পারেনা) মানেটা পালটে দিয়েছে। সেই জন্যেই আমি এখনো আশা করে আছি আপনাকে মাথামোটা বলায় আপনি রাগ করেন নি। নিশ্চয়ই করেন নি। নইলে লেখাটা এখনো পড়ে চলেছেন কেন?