Wednesday, January 18, 2012

গণ-পতি

১

৭৭ পাটায়া প্লেসে আজ অনেক লোক। সাদায় সেজেছে পুরো বাড়ি। এমনকি সামনের বাগান থেকেও কে যেন সবক’টা ফুল অনেক সকালে তুলে নিয়েছে। বাগানের মালি, বাড়ির কাজের লোক, রান্নার ঠাকুর- সকলেই সাদা ইউনিফর্ম পরে ফেলেছে। বাইরের লন থেকে ভিতরের ঘর- সর্বত্র ধূপ জ্বলছে- ধূপকাঠি নয়, মোটা মোটা ধূপ- সুগন্ধি। গম্ভীর মুখে যাতায়াত করছেন অনেক মানুষ। গম্ভীর, কারণ আজ কোন উৎসব নয় এখানে- শোকপালন। আজ এই নতুন বাড়ি প্রথম শোকের মুখ দেখলো।

দক্ষিণ-পূর্ব কোণের ঘরটায় বসেছিলেন আগরওয়াল-গিন্নী গোমতী। বয়স ছাপ্পান্ন, ওজন ৪৮ (ডায়াবেটিক), মেজাজ তিরিক্ষে। নেহাত আজকের দিনে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে লোকে কি বলবে, তাই গলার আওয়াজটা কম আছে। সঙ্গিনীরা ঘিরে বসে আছে, প্রায় জনা দশেক। সকলেই গত ঘন্টাখানেক ধরে শোক-জ্ঞাপন আর সান্ত্বনা-দানের পর সামান্য ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। সবথেকে বেশি বয়সের জনাতিনেক ঘরের একেবারে পিছনে বসে নিজেদের বাস্তব ও কাল্পনিক নানাবিধ রোগ

Thursday, January 5, 2012

টোটার কথা

৫

আমি পার্টি করিনা। পশ্চিম বাংলায় আমার পক্ষে ‘পার্টি’ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সে কথা মাকে কে বোঝাবে? আমাদের দেশ, আমার রাজ্য, আমার শহর- ধর্মনিরপেক্ষ। তাই আমার পক্ষে এখানে পার্টি করা – স্বপ্ন দেখার সমান। আমার কোন পার্টি নেই, অন্তত এই রাজ্যে। হাতে গোনা কিছু সমমতের বন্ধু থাকলে কি তাকে পার্টি বলে? তেমন হলে আমি এই পার্টির একজন বড় মাপের নেতা। আমি হিন্দু। না, ওই গেরুয়া পদ্মের দলটার সঙ্গে আমার- আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমার ধর্ম হিন্দু – যে ধর্মের গ্রন্থ বেদ, সংহিতা আর ঊপনিষদ। প্রচারক শঙ্করাচার্য, বিবেকানন্দ। আমার প্রথম পরিচয়- অন্য অসংখ্য বাঙালির মতো বিশ্বায়নের পাল্লায় পড়ে ভেড়ুয়া বনে যাইনি। আমি জঙ্গি হিন্দু। থামুন! আমি RSS নই!

জানি, এতটা পড়ার পরে আপনার এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে কি কুক্ষণে এই লেখাটা পড়তে বসেছিলেন, তাই তো? ঘাবড়াবেন না। এখানে তত্ত্বকথা বলে নিজের ও আপনার সময় আমি নষ্ট করবো না। দামি রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে একধরনের লঙ্কা আর পেঁয়াজ দেয়-

Wednesday, December 21, 2011

তিতিরের কথা

৪

দুটো ছ’টাকা দামের কফির কাপ, এক প্লেট বাটার ফ্রাই (জানি ওটাকে ব্যাটার ফ্রাই বলে, তমিশ্রা কুড়ি-পঁচিশ বার বলেছে, তবু আমার কাছে দোকানের মেনু ভগবান), এক প্যাকেট সিগারেট, অনেকটা প্রেমের সঙ্গে একটু-আধটু রাগারাগি, আমি আর প্রবীর- এই ছিল আমার প্রথম প্রেমের প্রথম এক মাসের দৈনিক ছবি। নন্দন-এর টিকিট কাউন্টারটা ছাড়িয়ে আকাদেমীর টিকিট কাউন্টারের দিকে যেতে যে ফাঁকা জায়গাটা, ওইখানে ছিল আমাদের রাদেঁভু পয়েন্ট। মে মাসের গরম, ক্লাসমেটদের বাঁকা চাউনি, জেম্মার খবরদারি, ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন মায়ের কাছে করা অঙ্গীকার, সন্ধে হলে পুলিশের ‘মদন-ভ্যানে’ ওঠার ভয়- কিছুই আমাদের দমাতে পারেনি। পার্সে কখনোই টাকা বেশি থাকে না, তায় কোথাও বসতে হলেই কিছু না কিছু কিনতে হয়- সব মিলিয়ে সিনেমা হলের অন্ধকারের আবডালটা খুব বড় বিলাসিতা ছিল আমাদের কাছে। তবু জানতাম আমারই মতো প্রবীরও টাকা জমাচ্ছে মাসে অন্তত একবার কোন কমদামী সিনেমা হলে ঢোকার জন্যে। কলকাতায় যখন প্রথম মাল্টিপ্লেক্স এলো, সব জায়গায় কি লাফালাফি- স্বাধীন হল-মালিকদের ভাত মারা যাচ্ছে। একটা কথা কেউ খেয়াল করেনি,

Friday, December 16, 2011

ঈশপ

আমি বুঝলি চিরদিন এরকম ছিলাম না,

বিশ্বাস কর, একদম স্বাভাবিক ছিলাম।

একজন নিখুঁত কচ্ছপ ছিলাম, জানিস-

তোর সাথে তো ছোটবেলা থেকে মিশি, কখনও

মনে হয়েছে, আমার গন্ডি ছাড়িয়ে কিছু করেছি?

না, তোরও দোষ নেই, আমারও না।

সুন্দর জঙ্গুলে জীবন কাটাতাম,

খাবার, বাসস্থান- কিছুই মেলানো যেত না,

তবু একসঙ্গে থাকতাম।

গল্পটা কে প্রথম পড়েছিল-

তুই, না আমি?

বাজে, জঘন্য গল্প।

বিশ্বাস কর, তোর পায়ে পড়ি, ভাল লাগেনি।

কেমন একটা মাথা ঘুরে গিয়েছিল।

বিপ্লবের ইচ্ছে জেগেছিল।

ইচ্ছে করেছিল, দেখাই আমারও ক্ষমতা আছে।

তোকে তাই দৌড়তে বলেছিলাম।

কেন রাজি হলি,

কেন রাজি হলি তুই?

আমারই দোষ, তোর আঁতে ঘা দিয়েছিলাম।

কি দরকার ছিল? আত্মবিশ্বাস ছিল খুব, না?

তুই মান বা না মান,

তোকে খুব ভাল করে চিনি, নিজের থেকেও।

জানতাম, তুই হারবি। তোকে ছাড়িয়ে যাব।

গল্পের খরগোশ তো হেরেছিল-

তুই এসেই পৌঁছতে পারলিনা, হারিয়ে গেলি মাঝপথে-

হারিয়ে দিয়ে গেলি আমায়।


***************************************
[হেইডাও সেম কেস... কিস্যুই হয় নাই...  :'( ]

সোজা সাপ্টা কথা

-      “স্পষ্টবক্তা মেয়েটার সামনে শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়া যায়,

আহ্লাদে গদগদ হওয়া যায়, গর্বে বুক ফেটে যায়;

ক্রুদ্ধ হয়ে পাশ কাটানো বা ঝগড়া করাও বিচিত্র নয়—

কিন্তু, ... পরম নির্ভরতায় কাঁধে হাত রাখা যায় কি?”

আপনি বলবেন- “হ্যাঁ, যাবে না কেন? অবশ্যই যায়,

একশোবার যায়। যায়, যায়, যায় ...”

-      “আঃ, অত জোর দিচ্ছেন কেন? মনে মনে সাপোর্ট পাচ্ছেন না তো?

ভয় নেই, আমি স্পষ্টবক্তা নই, পেট পাতলাও নই-

কাউকে বলে দেব না যে আপনার লাস্ট রিলেশনটা......”

-      “ক্ষেপছেন কেন? জানি, বলবেন, এখন যিনি-শুক্লাদি, তিনিও তো স্পষ্টবক্তা।

কই, তাঁর সঙ্গে তো...

বললাম তো, আমি স্পষ্ট কথা বলিনা, তবু, সবাই তো দেখতে পায়,

আপনার আজকাল তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাওয়া-”

-      “আমি!! কেন? ও বাবা, আর্টসের মেয়ে; স্যারের সাথে

সন্ধের পর বাড়ি ফিরছে দেখেই ভাবলেন......”

-      “রাগ করবো কেন? সত্যি বলবো, আজ তোমার টেবিলটা

গুছিয়ে দিতে দিতে খুব গান গাইছিলাম, গুনগুন করে,......

এখনো ভাবছো কেন বলিনা? তোমার ভাল লাগতো,

যদি প্রথম দিন স্পষ্ট করে বলতাম- ‘আপনাকে ভালবাসি’? ”

***************************************************
(এইটে কিছুই হয়নি... গদ্য-পদ্য কারে কয়, তা-ই জানি না, তায় আবার গদ্য কবিতা!!)