Tuesday, July 24, 2012

অভিযোগ


-      সর্বক্ষণ অন্যের কথা ভাবতে, শুনতে, বলতে আর ভাল লাগেনা। কে কোথায় কার স্বাধীনতা কেড়ে নিলো, কে কবে কার ওপর অত্যাচার করলো, কোথায় কোন নক্ষত্রে ক’টা টিকটিকি দেখা গেছে, সেই নিয়ে আলাপ, প্রলাপ, বিলাপ, আলোচনা, প্রস্তাবনা, সমালোচনা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, দুর্গন্ধ – আর ভাল লাগেনা। আর ভাল লাগেনা এত শব্দ। শব্দ-কল্পদ্রুম মানে অনেক পরে বুঝেছি। ওর মানে কেউ বাজে শব্দ করলে কল্পনা করা যে তার মাথায় দুড়ুম করে হাতুড়ি বসিয়ে দিলাম। Anger Management এর দরকার হবে না, ওই দুড়ুম শব্দেই বেজায় হাসি পাবে। আমারও এখন তেমন ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে করছে, কেউ একটু আমার কথা বলুক। কেউ না বললে অন্তত আমিই একটু নিজের কথা বলি। একটু নিজের পিঠ চাপড়ে দিই, নিজের কাঁধে মাথা রেখে একটু ঘুমোই। অন্য সক্কলের মতো আমিও নিজেকে ভালবাসি, কথাটা একবার অন্তত বলার মতো করে বলি। “প্রতিটি বলের সমান ও বিপরীতধর্মী বল দোকানে পাওয়া যায়” এর মতো করে নয়। কিছু নিখাদ সত্যি কথা আছে, যা জনসমক্ষে বলতে গেলেই আর মেরুদণ্ডে জোর পাওয়া যায় না।
-      যাহা শিরশির করে, তারে শিরদাঁড়া কয়।
-      নিজের কথাও ঠিক তাই। একদম বাচ্চারা ছাড়া

Sunday, July 8, 2012

Bite Sized (তাৎক্ষণিক - ৭, ৮, ৯)

১

পরিচয়, পরিমিত ভাল।

মিতভাষ

মিতালাপ

পরিশেষে, পরিমিতালী।


২

ঝিমঝিম, ঝিরঝির

সারাদিন টুপটাপ

বেহিসেবী অভিমান

বেয়াদব অনুরাগ–

তুমি আমি, আমি তুই,

নিরলস পিং পং

বাইরে বর্ষা আর

অন্দরে? সংসার।

৩

সিলিংয়ে ঝুল, দেওয়ালে উই

জানি,

একদিন হবেই-

‘উই শ্যাল ওভারকাম’

দড়িতে টাঙ্গানো দড়ি দেওয়া জাঙ্গিয়া,

বাথরুমে শ্যাওলার রাজধানী

মাঝে

জনাচার

নিরলস

ভূ-ভার কাঁধে বসে আছে।

৪
(Song of Ice and Fire)

রেওয়াজ রয়েছে

কিছু গরম পানীয় ঠাণ্ডা করে খাওয়ার।

এদিকে, মেয়েরা

বহুদিন

বোতল থেকে টুকছে।

Saturday, June 30, 2012

তাৎক্ষণিক-৬

কিছু কথা কেউ জানে না

জানে, মন-

কিছু প্রেম জমে ক্ষীর হয় তবু

নীরস নেপো দিনান্তে দইটাই মারে,

কিছু ব্যথা বুকে বাজে

বাকি সব গান হয়ে বাজবে বেতারে

কিছু ইঙ্গিত একান্তই তোমার, জানেমন...

কিছু কথা কেউ জানে না

জানে, মন...

Wednesday, June 20, 2012

বুড়ো কুকুর

“...আমিও কেমন কুকুর হয়ে গেছি
চাটার আগে শুঁকে দেখছি তোমায়...” -- শ্রীজাত

স্বাগতা চা বা কফি খেয়ে আসার পর ওকে চুমু খেতে খুব ভালো লাগে অমিতের। স্বাগতা বলে flavored kiss। অল্প কিছু আশ্লেষ, তারপরেই খাট- খেলার মাঠ।

বর্ষা এসে গেছে বেশ কিছুদিন হলো। পরিবেশ ঠাণ্ডা। সন্ধের পর থেকে মাঝে মাঝে ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। শহরতলী বলে এখনো পাঁচ-দশটা উভচর টিকে আছে। একে ঝির ঝির করে বৃষ্টি, তায় নতুন বাড়িতে পাতা আনকোরা সংসার। সন্ধের পর কোনদিনই ওদের বাড়িতে কেউ আসে না। রাতে স্বাগতা ঘুমোয় আর অমিত ইন্টারনেটে দেশোদ্ধার করে। তাই এইটাই ওদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার একমাত্র সময়।

আজ ব্যাপার আরও গুরুতর। বারোদিনের অন-সাইট ডিউটি শেষ করে আজ সকালেই বাড়ি ফিরেছে অমিত। যখন বাড়িতে ঢুকেছে, স্বাগতা তার আগেই ওদের এন.জি.ও র উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছিলো। ফিরেছে বিকেল ৩টে নাগাদ। ফলতঃ তার পর থেকে ঘনঘন নিজেদের মধ্যে আমিষ দৃষ্টি দেওয়া নেওয়া হচ্ছিলো। নেহাত কাজের মাসি ওই সময়েই আসে, তাই–

সাড়ে ছ’টায় দু’কাপ চা বানিয়ে নিয়ে এলো যখন স্বাগতা, ততক্ষণে বাইরে ঝমঝম করে শুরু হয়ে গেছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে

Thursday, June 14, 2012

তাৎক্ষণিক - ৫

যারা ঠাণ্ডা আগুন জ্বাললো-
পেটে খিদের দাঙ্গা পেরিয়ে

যার খাতার পাতায় অক্ষর
আর মাথার মধ্যে কারগিল

যারা পিত্তি গুলেছে চুম্বনে
আর শক্তি দিয়েছে বন্ধন

ওরা পেলো না কখনো শান্তি
ওরা নিজেই নিজের বাস্তিল

তাই কবিতা লিখেই উড্ডীন
আর শব্দ-সৃজনে শান্তি

খুঁজে আলোর দরজা আজীবন
শেষে কালো অক্ষরে মুক্তি...